জুন ১৪, ২০২৪ ৯:০৫ অপরাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

মালদ্বীপ থেকে অবশেষে সৈন্য প্রত্যাহার করছে ভারত

১ min read

দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের অবসানে অবশেষে মালদ্বীপ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশি ভারত। শনিবার মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আগামী মে মাসের মধ্যে মালদ্বীপ থেকে নিজ সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেবে নয়াদিল্লি।

ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দেশটি থেকে ভারতীয় প্রায় ৮০ জন সৈন্যকে সরিয়ে নিয়ে বেসামরিক কর্মীদের নিয়োগ করা হবে বলে উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ব্যাপক দৌড়ঝাঁপের মাঝে সম্প্রতি মালদ্বীপের সাথে ভারতের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবেশি এই দেশটি ভারত ঘেঁষা হলেও মালদ্বীপের চীনপন্থি নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু গত নভেম্বরে ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্কে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। মুইজ্জুর নির্বাচনী ইশতিহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষমতায় আসার পর মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সৈন্যদের প্রত্যাহারে ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

মালদ্বীপের ‘‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’’ নীতির অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোহাম্মদ মুইজ্জু প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরপর থেকে মালের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কে ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটে।

নির্বাচিত হওয়ার পর গত মাসে প্রথম চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পর মালদ্বীপকে দেওয়া সামরিক সরঞ্জাম এবং ওই অঞ্চলে মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করার কাজে নিয়োজিত ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছিলেন মুইজ্জু।

মালদ্বীপ বলেছে, ভারতীয় সৈন্যদের প্রথম দলটি আগামী ১০ মার্চ এবং বাকিরা ১০ মের মধ্যে চলে যাবে। ভারতের রাজধানীতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক এক বৈঠকে হওয়া চুক্তির বরাত দিয়ে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

আর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মালদ্বীপে মানবিক সেবাদানকারী ভারতীয় বিমান পরিচালনা প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে পারস্পরিকভাবে কার্যকর সমাধানে ঐকমত্যে পৌঁছেছে উভয় দেশ।

তবে ভারতের এই মন্ত্রণালয় সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ ছাড়া নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়নি।

ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশটিতে বর্তমানে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ৭৭ জন সদস্য রয়েছে। সৈন্যদের পাশাপাশি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর ১২ জন মেডিক্যাল কর্মকর্তাও মালদ্বীপে মোতায়েন রয়েছেন। দেশটির প্রত্যন্ত দ্বীপের বাসিন্দাদের মানবিক এবং চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য সৈন্যরা দেশটিতে অবস্থান করছেন।

মালদ্বীপকে ভারত দুটি উড়োজাহাজ ও একটি ডর্নিয়ার বিমান দিয়েছে; যেগুলো বেশিরভাগ সময় সামুদ্রিক নজরদারি, তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান এবং চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয়। আর এসব কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেন ভারতীয় সৈন্যরা। ভারতের প্রথম উড়োজাহাজ এবং ক্রুরা মালদ্বীপে প্রথমবারের মতো কাজ শুরু করে ২০১০ সালে; যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন মোহামেদ নাশিদ।

পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক মালেতে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে বলে মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। কিছু দিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মালদ্বীপের তিন মন্ত্রীর অবমাননাকর পোস্টের পর থেকে মুইজ্জুর সরকারের সাথে ভারতের কূটনৈতিক সংকটের শুরু হয়।

নয়াদিল্লিতে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত আগামী ১০ মের মধ্যে মালদ্বীপে তিনটি বিমান চলাচল প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী সামরিক কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে নতুন করে বেসামরিক কর্মী পাঠাবে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ ১০ ​​মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া বাকি দুুটি প্ল্যাটফর্মেও আগামী ১০ মের মধ্যে সৈন্যদের ফিরিয়ে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই বিষয়ে উভয় দেশ রাজি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি।

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!