মার্চ ৪, ২০২১ ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ইউএস বাংলানিউজ করপোরেশন, নিউইয়র্ক

অগ্রসর পাঠকের বাংলা অনলাইন

https://usbanglanews24.com/

এবার ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলের শিকার শাওমি

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য বিরোধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হুয়াওয়ে, যা তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার থেকে ছিটকে পড়েছে। এবার তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টার্গেট আরেক বৃহৎ চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি করপোরেশন। এরই অংশ হিসেবে ক্ষমতার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে গত বৃহস্পতিবার চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে শাওমিসহ মোট নয়টি চীনা প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। খবর গিজমোচায়না ও রয়টার্স।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি। ডিভাইস বাজারে প্রবেশের পর থেকে নজরকাড়া প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়ে বিশেষ কালো তালিকায় নাম ওঠায় মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হারাতে চলেছে শাওমি। একই সঙ্গে নতুন করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনতে পারবে না মার্কিন কোনো বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। শুধু তা-ই নয়, শাওমিতে বিনিয়োগ রয়েছে এমন মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে তহবিল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্তির খবর প্রকাশের পর গতকাল ১০ হাজার কোটি ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে শাওমি। দুর্ভাগ্যক্রমে অন্যান্য চীনা কোম্পানির মতোই শাওমিসহ নতুন করে কালো তালিকাভুক্ত করা নয় চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সপক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেনি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শাওমির ওপর মার্কিন খড়গ অনেকটা অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ শাওমি একটি স্মার্টফোন এবং ইলেকট্রনিকস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতসংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ এবং কালো তালিকাভুক্তিতে জোর দিয়ে আসছিল। যে কারণে এর আগে বিশ্বের বৃহৎ টেলিকম নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম নির্মাতা হুয়াওয়ে এবং সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি কোম্পানি এসএমআইসিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে শাওমিসহ চীনের ৬০টির বেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত করা হলো।

শাওমির উত্থান স্মার্টফোন ব্যবসা দিয়ে। শুরু থেকেই এর স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগের গ্রাহক বাড়ছিল দ্রুত। বিভাগটির কল্যাণে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। শাওমির উত্থানে বিনিয়োগকারীরাও খুশি ছিলেন। অর্থের জোগান দিয়ে আসছিলেন প্রয়োজনমতো। সর্বশেষ ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রথমবার প্রতিষ্ঠানটির রাজস্বে স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগের গুরুত্ব কমতে দেখা যায়। ওই সময় বাজারমূল্য ধরে রাখা নিয়ে সংকটে পড়ে শাওমি। তবে সে সংকট কাটিয়ে উঠতে খুব বেশিদিন সময় লাগেনি প্রতিষ্ঠানটির। এর পেছনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ভারতে শাওমির নজরকাড়া উত্থান। দেশটিতে স্যামসাংকে হটিয়ে শীর্ষ অবস্থানে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিল শাওমি। যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্তি চীনের উদীয়মান স্মার্টফোন ব্র্যান্ডটির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আইফোন নির্মাতা অ্যাপলকে হটিয়ে শীর্ষ তিন নম্বরে উঠে এসেছে চীনভিত্তিক শাওমি। ওই সময় বাজারটিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল যথাক্রমে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক স্যামসাং ও চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও কালো তালিকাভুক্তির কারণে চলতি বছর স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে হুয়াওয়ে শীর্ষ পাঁচ থেকে ছিটকে পড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের শেষদিকে কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর প্রাদুর্ভাব স্মার্টফোন বাজারের জন্য তীব্র অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। নভেল করোনাভাইরাসের উত্পত্তিস্থল চীন হওয়ায় স্যামসাং ব্যতীত অ্যাপলসহ অন্য ডিভাইস নির্মাতাদের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ভাইরাসটির উত্পত্তিস্থল চীনের উহান প্রদেশ হলেও তা শুরুতে দ্রুত চীনের অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চুক্তিভিত্তিক ডিভাইস নির্মাতা ফক্সকন ও পেগাট্রন কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছিল, যা উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করে। পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভিয়েতনামেও স্মার্টফোন উৎপাদন ব্যাহত হয়।

এবিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেছেন, শাওমিসহ মোট নয় প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে হুয়াওয়ের মতো মার্কিন প্রযুক্তি ক্রয় এবং নিজস্ব পণ্য উন্নয়ন নিয়ে খুব একটা জটিলতায় পড়বে না শাওমি। অর্থাৎ মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজস্ব পণ্য উন্নয়নে হুয়াওয়ে ও ড্রোন নির্মাতা ডিজেআইয়ের মতো মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের কাছ থেকে পৃথক লাইসেন্স নিতে হবে না। ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জো বাইডেন। নতুন প্রশাসনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা গুরুত্ব হারাতে পারে অনেকেই ধারণা করছেন।

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!