ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪ ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

৪৮ মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, ডিএনএ পরীক্ষার পর হস্তান্তর

১ min read

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৮ মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগুনে পুড়ে বিকৃত হওয়া লাশগুলো ডিএনএ পরীক্ষার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস। তিনি জানান, শুধু ফরেনসিক নয়, পাশাপাশি মরদেহের ডিএনএর প্রোফাইলয়ের জন্যও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে নারী-পুরষসহ তারা মোট ৪৮টি মরদেহ পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন এই ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে লাশগুলো নিয়ে আসার পর থেকে সেখানে বাড়তে থাকে স্বজনদের উপস্থিতি। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারি হয়ে উঠে মর্গের বাতাস। মর্গে স্বজনরা ছবি নিয়ে এসে আকুতি জানাচ্ছেন প্রিয়জনের লাশটি ফিরে পেতে। কিন্তু লাশগুলোকে চেনা যাচ্ছে না অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ার কারণে। তাই ডিএনএ পরীক্ষার পর লাশগুলো স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ-এর নমুনা সংগ্রহ করা শুরু করেছে। ঢামেক মর্গে আসা স্বজনদের কাছ থেকে এ নমুনা নেওয়া হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানাচ্ছেন সিআইডির ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাবের সদস্যরা।

এ বিষয়ে ফরেনসিক ল্যাবের সহকারী অ্যানালিস্ট আশরাফুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ঢামেক মর্গে আসা স্বজনদের কাছ থেকে নমুনা নিচ্ছি। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। নমুনা পরীক্ষার পর লাশ চিহ্নিত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় সেজান জুস, কোমল পানীয় ও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরির ওই কারখানায় আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদের মধ্যেআগুন লাগার পরপরই মারা যান তিনজন। তাদেরসহ মোট ৪টি মরদেহ শনাক্ত হলেও বাকি ৪৮ জনের লাশই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ টেস্ট করার পর মৃতদের লাশ যার যার আত্মীয়-স্বজনের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা।

নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের ঘোষণা করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। পাশাপাশি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!