আগস্ট ১৪, ২০২২ ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ইউএস বাংলানিউজ, নিউইয়র্ক

অগ্রসর পাঠকের বাংলা অনলাইন

সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত করলো বিএনপি

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি। বুধবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি ও বিদেশি মেহমানদের স্বাগত জানানো ও অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে তার প্রেক্ষাপটে দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে জনমনে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপির ঘোষিত সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হলো। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমাদের কর্মসূচিগুলো পুনরায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম প্রতিষ্ঠিত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দল জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তী পালনের জন্য বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং স্বাধীনতার ৫০ বছরের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলির সঠিক তথ্য জনগণ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।

‘যে জাতি তার প্রকৃত ইতিহাস জানে না, সে জাতি টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধন করতে পারে না। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের ঘোষিত কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই সকল কর্মসূচি ও আমাদের বক্তব্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে উঠে আসায় সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আমরা আমাদের কর্মসূচিগুলো স্বচ্ছন্দে যাতে পালন করতে না পারি তার জন্য নানা প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করছে।

তিনি জানান, সরকারের জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তী পালন উপলক্ষে বিদেশি মেহমানদের সফরকে কেন্দ্র করে আমাদের বেশ কিছু কর্মসূচি ২২ মার্চের সিম্পোজিয়াম, ২৫ মার্চের আলোচনা সভা, ২৬ মর্চের সুবর্ণ জয়ন্তীর র‌্যালি এবং ৩০ মার্চের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের অনুমতি এখনো পাওয়া যায়নি।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, সরকার দেশের জরুরি পরিস্থিতি ও জনস্বার্থের হুমকিকে উপেক্ষা করে তাদের অনুষ্ঠানে জনসমাগম ও বিদেশি মেহমানদের স্বাগত জানাতে গিয়ে দেশের মানুষকে আরো ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে জনস্বাস্থ্যের হুমকির চেয়ে বিদেশি সরকার প্রধানদের সার্টিফিকেট লাভকে প্রাধান্য দিচ্ছে। করোনাকালের এ কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের বাংলাদেশ সফরে জনগণ স্বস্তিবোধ করছে না। এ বিষয়ে জনগণের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে স্বৈরাচারী কায়দায় দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

‘এ সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগদানের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সকল মহল মনে করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাশিয়ানী উপজেলার ওরাকান্দি গ্রামের মন্দিরসমূহ এবং সাতক্ষীরা শ্যামনগরে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শনকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রচারের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। হিন্দু ধর্মীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ সালে ওরাকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিম বঙ্গের লক্ষাধিক মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটকে প্রভাবিত করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী এহেন আকস্মিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

‘অথচ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহু অমীমাংসিত বিষয় বিশেষ করে তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোন পক্ষেরই কোন মাথা ব্যথা নেই। আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে, ইতিপূর্বেই তিস্তা পানি সংক্রান্ত চুক্তিসহ অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, একটিরও সমাধান হয়নি। উপরন্তু বাংলাদেশ ভারতের সাথে একটির পর একটি চুক্তি করছে যা- বাংলাদেশের কোনো উপকারে আসছে না।’

বর্তমানে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক অবস্থায় উপনীত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি একটানা ৭ সপ্তাহ যেখানে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে ছিল, সেখানে চলতি সপ্তাহে তার হার ১৩.৬৯ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৫৪ জন। যা গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। সরকারের দেয়া এ হিসাবও প্রকৃত চিত্র নয় বলে বিশেষজ্ঞমহল মনে করে।

গত কয়েক দিন যাবত দৈনিক যে পরিমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার মধ্যে বড় অংশ জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানকে ঘিরে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে বিদেশগামী যাত্রী। তাই সাধারণ জনগণকে পরীক্ষার আওতায় আনলে সংক্রমণের সংখ্যা আরো অনেক গুণে বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে পরীক্ষাপ্রার্থীদের লাইন প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে। জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কা।

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!