মার্চ ৪, ২০২১ ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ইউএস বাংলানিউজ করপোরেশন, নিউইয়র্ক

অগ্রসর পাঠকের বাংলা অনলাইন

করোনার টিকা ঢাকায়

ঢাকায় পৌঁছেছে বহুল প্রত্যাশিত করোনাভাইরাসের টিকা। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতের মুম্বাই থেকে উপহারের ১৭ লাখ ৯৯ হাজার ২৬২ ডোজ টিকা নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট।

বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ টিকা দিচ্ছে ভারত। এর প্রথমধাপের টিকাগুলো ঢাকায় পৌঁছালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট থেকে সেগুলো কাভার্ড ভ্যানে তুলে তেজগাঁও জেলা ইপিআই স্টোরে পৌঁছানোর জন্য কাজ শুরু করেছে পুলিশের স্কট টিম।

দুপুরে দেড়টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকা হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

টিকা নিয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নান জানান,  দেশে নভেল করোনাভাইরাসের টিকা আসার পর প্রথম দিন চিকিৎসক, নার্স, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন, সাংবাদিকদের একজন করে প্রতিনিধিকে টিকা দেয়া হবে। আমরা প্রথম দিন এ রকম ২০ থেকে ২৫ জনকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করেছি। আমরা কাজ করছি এ ২০-২৫ জন কারা হবেন।

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে দেশে এ টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল না হওয়ায় গণটিকাদান শুরু করার আগে এ সংক্ষিপ্ত পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী এক সপ্তাহ অপেক্ষা করা হবে। এরপর টিকা দেয়া হবে সারা দেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

টিকা প্রয়োগ শুরুর দিনক্ষণের বিষয়ে সচিব বলেন, আমাদের একটা সম্ভাব্য দিন ঠিক করা আছে ২৭ অথবা ২৮ জানুয়ারি। তবে এটা চূড়ান্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে, এটাই প্রাথমিক পরিকল্পনা।

আবদুল মান্নান বলেন, গত মঙ্গলবার কভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কমিটির বৈঠকে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেনা টিকার প্রথম চালান ও উপহারের টিকা মিলিয়ে প্রথম মাসে আসবে ৭০ লাখ ডোজ। প্রতিদিন দুই লাখ ডোজ হিসেবে প্রথম মাসে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টিকা পাওয়ার পর ২৭ অথবা ২৮ জানুয়ারি ঢাকায় প্রথমে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে। ঢাকা মেডিকেল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ও কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে প্রাথমিকভাবে এ টিকা দেয়া হবে।

গণটিকাদান শুরুর আগে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন শুরু হবে। স্বাস্থ্যকর্মীসহ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা কর্মীরা সবার আগে টিকা পাবেন। প্রথম ডোজ দেয়ার আট সপ্তাহ পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ। টিকার প্রাপ্যতা অনুযায়ী মাসভিত্তিক একটি বিতরণ তালিকাও এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের প্রথম ধাপে দেশের মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ অর্থাৎ ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত সেরাম ইনস্টিটিউট ছাড়া আর কারো সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়নি।

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!