আগস্ট ১৩, ২০২২ ১০:১৪ অপরাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ইউএস বাংলানিউজ, নিউইয়র্ক

অগ্রসর পাঠকের বাংলা অনলাইন

‘সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী কবিতা’র বিশেষ আয়োজন হলো নিউইয়র্কের বইমেলায়

সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী কবিতা’র বিশেষ আয়োজন হয়েছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত নিউইয়র্ক বইমেলা-২০২১ এ। ৩০ অক্টোবর, ২০২১ইং শনিবার বিকেল চারটায় শুরু হয়ে দেড়ঘন্টা ব্যাপি চলে এই অনুষ্ঠান।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি মিনার মনসুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন। কবি ফকির ইলিয়াসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবী, মুক্তধারা ফাউণ্ডেশনের সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ফেরদৌস সাজেদীন, ও কবি জাফর আহমদ রাশেদ।

বক্তব্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ফেরদৌস সাজেেদীন বলেন, আমরা প্রতিবাদ করেই যাবো। বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন আমরা মানবো না।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কবি ফকির ইলিয়াস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ এ কে আবদুল মোমেনের বিবিসি’র সাথে দেয়া একটি সাক্ষাতকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেক উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়েছে। আক্রমণ করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আজকের এই কবিতা সমাবেশ এর তীব্র প্রতিবাদ করছে।

ফকির ইলিয়াস বলেন, তিরিশ লাখ শহিদের রক্তে ভেজা এই দেশ সম্মানের সাথেই এগোতে চায়। এখানে কোনো মিথ্যাচার, আক্রমণ মেনে নেয়া যায় না। মেনে নেয়া হবে না।

প্রধান অতিথি কবি মিনার মনসুর বলেন, গোটা বিশ্বেই কবিতা দুইভাগে বিভক্ত। একটি দল মনে করে ফুল, পাখি, হাওয়া, নদী প্রেম নিয়ে কবিতা লিখেই তাদের দায়িত্ব শেষ। তারা মনে করেন তা থেকেই সকলে বুঝে নেবেন তাদের ব্যঞ্জনা! আর একটি পক্ষ মনে করেন, কবিতা হবে মানুষের অধিকারের ভাষা।

কবিতা হবে গণমানুষের বিবেকের প্রতীক। কবিতা সকল দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকবে। প্রথম পক্ষ, দ্বিতীয় পক্ষের কবিতাকে বলেন শ্নোগান। যা একেবারেই পানসে একটি কথা। কারণ, কবিতা কার জন্য? কবিতা যদি মানুষের জন্য হয়, তবে তাতে তো শাণিত কথা থাকবেই। আজকের বিশ্বে এটাি কবিতার প্রধান ধারা।

তিনি বলেন, আজ এখানে কবিতা যারা পড়েছেন, তাদের কবিতা কতটা শিল্পসম্মত তা বিজ্ঞ সাহিত্য সম্পাদক, সমালোচকরা বলতে পারবেন। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক আঁধার-কালে অভিবাসী কবিরা এই যে গর্জে উঠেছেন এটি আমাদের সাহিত্যের ঐতিহ্যের অংশ।

নিউইয়র্কে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে, আমি টিএসসি চত্বরে দাঁড়িয়েই কথা বলছি, কবিতা পড়ছি। আর তা বিশ্বের অনেক ভাষাভাষি মানুষ অনলাইন মিডিয়ায় দেখছেন। এটাই আমাদের কবিতার মূল ঐক্যধারা।

কবি মিনার মনসুর বলেন, এবারের শারদীয় উৎসবে বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা আমাদের চরম লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। আমরা তা মানবো না। মানতে পারি না। কারণ, বাংলাদেশের সিংগভাগ মানুষই মুক্তচিন্তা ও ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাই এখানে কিছু দুর্বৃত্ত আক্রমণ করে পার পাবে না, পেতে পারে না।

অনুষ্ঠানে কবিতা পড়েন- জাফর আহমদ রাশেদ, হুমায়ুন কবীর ঢালী, সৈয়দ মামুনুর রশীদ, আনোয়ার সেলিম, মিশুক সেলিম, আদনান সৈয়দ, এবিএম সালেহ উদ্দিন, ফারহানা ইলিয়াস তুলি, আহমেদ ছহুল, আবু সাঈদ রতন, ইশতিয়াক রুপু, শাহাব আহমেদ, খালেদ সরফুদ্দীন, আলম সিদ্দিকী, রানু ফেরদৌস, বেনজির শিকদার, মীম নওশীন নওয়াল খান,জেবুন্নেছা জোৎস্না,সবিতা দাস, আবুল বাশার প্রমুখ।

কবি সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী পারভীন সুলতানা।

কবি আবিদ আজাদের কবিতা আবৃত্তি করেন, সাহিত্য একাডেমি নিউইয়র্কের পরিচালক শব্দজন মোশাররফ হোসেন।

ডঃ নুরুন নবী আয়োজনে সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্বাধীন হয়েছে। আমরা এই আদর্শ থেকে বিচ্যু্ত হবো না।

আজকের এই আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এবারের বইমেলার সম্মানিত আহ্বায়ক ডঃ নবী বলেন, বাংলাদেশের যে কোনো সংকটে অভিবাসীরা পাশে ছিলেন এবং আছেন। এই বিষয়ে আমরা কোনো আপোস করবো না।

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যক্তিত্ব ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সউদ আহমদ চৌধুরী, লেখক হাসান ফেরদৌস, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিউইয়র্ক এডিশন সম্পাদক লাবলু আনসারসহ অনেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।

 

 

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!