JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি শামসুর রাহমান

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি শামসুর রাহমান

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠকবি শামসুর রাহমান। প্রতিবাদী মানস শামসুর রাহমান  স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে বিদ্রুপ করে ১৯৫৮ সালে সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল (পত্রিকা) পত্রিকায় লেখেন `হাতির শুঁড়` নামক কবিতা। বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যখন কারাগারে তখন তাঁকে উদ্দেশ্য করে লেখেন অসাধারণ কবিতা `টেলেমেকাস` (১৯৬৬ বা ১৯৬৭ সালে)। ১৯৬৭ সালের ২২ জুন পাকিস্তানের তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী রেডিও পাকিস্তানে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্প্রচার নিষিদ্ধ করলে শামসুর রাহমান তখন সরকার নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তান-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় পেশাগত অনিশ্চয়তার তোয়াক্কা না করে রবীন্দ্রসঙ্গীতের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন যাতে আরো স্বাক্ষর করেছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান, আহমেদ হুমায়ুন, ফজল শাহাবুদ্দীন।

১৯৬৮ সালের দিকে পাকিস্তানের সব ভাষার জন্য অভিন্ন রোমান হরফ চালু করার প্রস্তাব করেন আইয়ুব খান যার প্রতিবাদে আগস্টে ৪১ জন কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী এর বিরুদ্ধে বিবৃতি দেন যাদের একজন ছিলেন শামসুর রাহমানও। কবি ক্ষুদ্ধ হয়ে লেখেন মর্মস্পর্শী কবিতা `বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা`। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি গুলিস্তানে একটি মিছিলের সামনে একটি লাঠিতে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট দিয়ে বানানো পতাকা দেখে মানসিকভাবে মারাত্মক আলোড়িত হন শামসুর রাহমান এবং তিনি লিখেন `আসাদের শার্ট` কবিতাটি।

১৯৭০ সালের ২৮ নভেম্বর ঘূর্ণিদুর্গত দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় ও মৃত্যুতে কাতর কবি লেখেন `আসুন আমরা আজ ও একজন জেলে` নামক কবিতা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবার নিয়ে চলে যান নরসিংদীর পাড়াতলী গ্রামে। এপ্রিলের প্রথম দিকে তিনি লেখেন যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় আক্রান্ত ও বেদনামথিত কবিতা `স্বাধীনতা তুমি` ও `তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা`। শামসুর রাহমান ১৯৮৭ সালে এরশাদের স্বৈরশাসনের প্রতিবাদে দৈনিক বাংলার প্রধান সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৮৭ থেকে পরবর্তী চার বছরের তিনি প্রথম বছরে `শৃঙ্খল মুক্তির কবিতা`, দ্বিতীয় বছরে `স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কবিতা`, তৃতীয় বছরে `সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কবিতা` এবং চতুর্থ বছরে `সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কবিতা` লেখেন। ১৯৯১ সালে এরশাদের পতনের পর লেখেন `গণতন্ত্রের পক্ষে কবিতা`। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জনমানুষের প্রতি অপরিসীম দরদ তার চেতনায় প্রবাহিত ছিল। শামসুর রাহমানের বিরুদ্ধে বারবার বিতর্ক তুলেছে কূপমণ্ডুক মৌলবাদীরা। তাকে হত্যার জন্য বাসায় হামলা করেছে। এতকিছুর পরও কবি তার বিশ্বাসের জায়াগায় ছিলেন অনড়।

লেখালেখির জন্য পেয়েছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার,  আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক, জীবনানন্দ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার, মিতসুবিসি পুরস্কার (সাংবাদিতার জন্য), ও আনন্দ পুরস্কার।

ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।

কবির জন্মদিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে বাংলা একাডেমি, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদ যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিকেল ৪ টায় বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র চত্বরে আলোচনা, কবিতাপাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, কবি রবিউল হুসাইন, কবি মোহাম্মদ নুরুল হুদা ও অধ্যাপক রফিকউল্ল্যাহ খান।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর তার লিখিত দু’টি কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ পাঠক ও বোদ্ধাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ও সমাদৃত হয়।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলিতে শামসুর রাহমান জম্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের ১৭ আগষ্ট তিনি মারা যান।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!