মে ২১, ২০২৪ ১১:১০ অপরাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

১ min read

-আবু সাঈদ রতন

২০১৮ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবেই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এই টার্নিং পয়েন্ট হলো রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নতুনমাত্রা নিয়ে বছরটি পার করবে এতে কারো সন্দেহ নেই। অভ্যন্তরীন রাজনীতি একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।

এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে যে অবস্থানে দাঁড়িয়েছে তা চলমান রাখাই হবে সরকারের বড় চ্যলেঞ্জ। অর্থনৈতিকক্ষেত্রে বড় চ্যলেঞ্জের কারণহলো আগামী মার্চ মাসেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। এই খবরটি একদিকে যেমন আনন্দের, তেমনি টেনশানের বিষয়ও। কেননা উন্নয়শীল দেশের কিছু নিয়ম-কানুন আছে যা মেনে চলতেগেলে অর্থনৈতিক অবকাঠামো সূদৃঢ় হতে হয়। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্থা (ইকোসক) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দিয়ে থাকে। কেননা বাংলাদেশ তাদের সব শর্তই ইতোমধ্যে পূরণ করেছে। যেমন উন্নয়নশীল দেশ হতে হলে মাথাপিছু আয় হতে হবে ১২৩০ ডলার, যা বাংলাদেশের আছে ১৬১০ ডলার। মানবসম্পদ সূচক হতে হবে ৬৬, যা বাংলাদেশের আছে ৭২.৮.। অর্থনৈতিক ভঙ্গুর সূচকের স্কোর হতে হবে ২৫ বা তার কম। বাংলাদেশের আছে ২৫।

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে থেকেই স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পেয়ে আসছিল। এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখানোর ফলে যে আশংকা দেখা দিয়েছে তা হলো, স্বল্পোন্নত দেশের বাজার ও কম সুদের বহি: ্র্ঋণ সুবিধা হারাবে।
ট্রাম্প প্রশাষণ ইতিমধ্যেই ৪০ শতাংশ সাহায্য বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব দেশ এ মর্যাদা পেয়েছে তারা সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের কাজগুলো করেছে। এই কাজগুলো যদি বাংলাদেশ দ্রুততার সংগে করতে না পারে তবে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে যাবে। পৃথিবীর অনেক উন্নয়নশীল দেশ আছে যারা উন্নয়নশীল হওয়ার পরেও আর এগুতে পারেনি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখার জন্য ৩ বছর সময় পাবে। এর মধ্যে সবগুলো শর্ত ধরে রাখতে হবে। আর সবশর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যেম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সম্ভাবনা আছে। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার ফলে ঋণ সাহায্যে কমে যাবে। তবে অন্যদিকে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হবে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর। কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরী এবং মানষিকভাবে প্রস্তুতি সরকারের আছে এবং চেস্টাও আছে। পদ্মাসেতু নিজস্ব অর্থায়নে করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস অনেকে বেড়েগেছে। বিগত ৪ বছর দেশে কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিলনা বললেই চলে। তাই বাংলাদেশে যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এবং সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তার গতি ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের মতেও উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন করা ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি যে বৈষম্যের সৃস্টি হচ্ছে তা উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত করতে হবে। এখানেই বাংলাদেশের মুল চ্যলেঞ্জ। কেননা রাজনৈতিক অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার একটি কমন ফ্যাক্টর। বাংলাদেশে নির্বাচনকে সামনে রেখেতো আছেই এবং তা কতদূর পর্যন্ত গড়ায় তা দেখার বিষয়। সরকার ইতোমধ্যেই বিরোধীদলকে অনেকটা দূর্বল করে ফেলেছে।

২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে চ্যালেঞ্জ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তা ২০১৮ সালে এসে চুড়ান্তরূপ নিয়েছে। সরকারি দল এক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কেননা ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এবং জামায়াত মিলে নির্বাচন প্রতিরোধের ডাক দিলেও কার্যত তা বাস্তবায়ন হয়নি। আর তা বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে তাদের জ্বালাও পোড়াও নেতিবাচক রাজনীতিরচিত্র সরকার অর্থাৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট বেশ সফলভাবেই জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে পেরেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে জামায়াতের প্রায় শীর্ষ স্থানীয় নেতার ফাঁসি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে বিএনপি জামায়াতের অনেককর্মীই এখন মামলা মোকাদ্দমা নিয়ে ব্যস্ত। এমন কি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মামলার হাজিরা দিতে দিতেই বছরটি পার করে দিতে পারেন এমনটি আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। সরকার চাচ্ছে বিএনপিকে মামলা মোকাদ্দমার চাপে রেখে দায়সারাভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করাতে। বিএনপি’র অবস্থান এক্ষেত্রে কি হবে তা পরিস্কার নয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে পারলেও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রোহিঙ্গা সংকটে অর্থনৈতিক কাঠামো দূর্বল করেছে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলো চলছে ফ্রি স্টাইলে। বড় বড় ব্যাংকের স্লথগতি উন্নয়নের কাজকে ব্যহত করছে। একনেকের বৈঠকে প্রকল্প পাশ হলেও সময়মত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ঋণদাতা ও সাহায্যেকারি দেশগুলো অর্থ ফেরত নিয়ে যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই। মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে যে দক্ষ জনবল, প্রযুক্তি জ্ঞান ও বিশ্ব অর্থনীতির ধারণা বাংলাদেশের ঘাটতি আছে বলেই মনে হয়, মানে পর্যাপ্ত নয়। আমদানী, রপ্তানীর ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে আরো কার্যকর ভূমিকা নেয়া প্রয়োজন। নতুন নতুন বাজার সৃস্টিকরে সে রপ্তানীর উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশ আমাদের সকলের। নিজ নিজ দলের নেতা নেত্রীদের সেই নেতৃত্বদানের স্বক্ষমতা অর্জন করে এবং দক্ষ প্রশাসন, আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। তাই সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। বাংলাদেশ কি পারবে সেই চ্যলেঞ্জ মোকাবেলা করতে?

-লেখক, সম্পাদক ইউএস বাংলা নিউজ, নিউইর্য়ক
ইমেইই: [email protected]

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read
error: Content is protected !!