মে ৩০, ২০২৪ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

বিদেশি গণমাধ্যমে শাহনাজ রহমতুল্লাহর মৃত্যুর খবর

১ min read

শাহনাজ রহমতুল্লাহ। বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী। একসময় পাকিস্তান রেডিও, টেলিভিশন ও সিনেমায় নিয়মিত গেয়েছেন। তার গাওয়া পাকিস্তানের দেশাত্মবোধক গান আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। গানের পাখির প্রয়াণের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্মরণ করেছেন দেশটির বিশিষ্টজনেরা। বিশ্বের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে এই গুণী মানুষের প্রস্থানের খবর।

বিবিসির বাংলা সংস্করণ তাদের শিরোনামে লিখেছে ‘বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ মারা গেছেন’। এতে বলা হয়েছে- মেধা, পরিশ্রম আর কিছুটা ব্যতিক্রম ও পরিণত কণ্ঠের কারণে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন এই গুণী শিল্পী।

বিবিসি বাংলায় ‘শাহনাজ রহমতুল্লাহ: শিশু বয়সেই খ্যাতি পেয়েছিলেন যিনি’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন সাজানো হয়েছে কয়েকজন সংগীতশিল্পীর মন্তব্য নিয়ে। এতে বলা হয়, ষাটের দশকের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গ্রামোফোন রেকর্ডে সমানভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন কিছুটা ব্যতিক্রম কণ্ঠের শাহনাজ রহমতুল্লাহ। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের মুহূর্তে তার কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছিল ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটি।

কলকাতার এই সময় পত্রিকা শিরোনাম করেছে, ‘চলে গেলেন বাংলাদেশের কালজয়ী শিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহ’। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের গানের জগতে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম শাহনাজ রহমতউল্লাহ। তাঁর কণ্ঠ শুরু থেকেই ছিল বেশ পরিণত। গজল সম্রাট মেহেদি হাসানের শিষ্য ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে তাঁর নাম।’

‘সোহিনী ধরতি আল্লা রাখে’ শিরোনামে পাকিস্তানের দেশাত্মবোধক গানের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় গানটিও গেয়েছিলেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। এটিকে বিবেচনা করা হয়ে থাকে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীতের বিকল্প। এ গানের উদাহরণ দিয়ে রেডিও পাকিস্তান শিরোনাম করেছে ‘ফেমাস সিঙ্গার শাহনাজ বেগম পাসেস অ্যাওয়ে’।

যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শেরি রেহমান টুইট করেছেন, “অসাধারণ গায়িকা শাহনাজ বেগমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান শোকাহত। পিটিভিতে তার গাওয়া ‘সোহিনী ধারতি আল্লা রাখে’ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি লিখেছিলেন জামিলুদ্দিন আলি।”

পাকিস্তানের জিও টিভি শিরোনাম করেছে, ‘রিনাউন্ড সিঙ্গার শাহনাজ বেগম পাসেস অ্যাওয়ে’। দেশটির টিভি সাংবাদিক হামিদ মীর টুইটারে লিখেছেন, “চলে গেলেন শাহনাজ বেগম। ২৩ মার্চ পাকিস্তানিরা প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘সোহিনী ধারতি আল্লা রাখে কদম কদম আবাদ’ শুনেছেন, একইদিন বাংলাদেশে প্রয়াণ হলো তার।”

লাহোরের আইনজীবী ও ব্লগার ইয়াসমীন আলি টুইটারে লিখেছেন, ‘খ্যাতিমান গায়িকা শাহনাজ বেগম আর নেই। ঢাকায় রবিবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। ঢাকায় ১৯৫২ সালে জন্ম হয় তার। সোহিনী ধারতি আল্লাহ রাখে ও জিবে জিবে পাকিস্তান গান দুটি তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। শান্তিতে থাকুন শাহনাজ বেগম।’

লন্ডন প্রবাসী পাকিস্তানি সাংবাদিক সালমান সিদ্দিকীর টুইট, “পাকিস্তান যেদিন প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করছে তখন চিরবিদায় নিলেন শাহনাজ বেগম। বিখ্যাত দেশের গান ‘জিবে জিবে পাকিস্তান’-এর জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি। তার গানের সুবাদে বিশ্বের অনেক দেশ পাকিস্তানকে চিনেছে।”

নিউ ইয়র্ক প্রবাসী পাকিস্তানি নারী শাজিয়া রাফি বলেন, “বাংলাদেশের নাইটিঙ্গেল ও পাকিস্তানের সুইটহার্ট শাহনাজ বেগম তারুণ্যে গেয়েছিলেন ‘সোহিনী ধারতি’। এটি হয়ে গেছে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীতের বিকল্প। পিটিভি হোম অফিসিয়াল চ্যানেলে এর অরিজিনাল টেপ পাওয়া যায়।”

পাকিস্তানের দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল শিরোনাম করেছে ‘জিবে জিবে পাকিস্তান’, ‘সোহিনী ধারতি আল্লা রাখে’র সিঙ্গার শাহনাজ বেগম পাসেস অ্যাওয়ে। সামা অনলাইনের শিরোনাম ‘সোহিনী ধারতি আল্লাহ রাখে গায়িকা শাহনাজ বেগম পাসেস অ্যাওয়ে’। দ্য ন্যাশন শিরোনামে বলেছে, ‘সোহিনী ধারতি খ্যাত গায়িকা শাহনাজ বেগম পাসেস অ্যাওয়ে’। এআরওয়াই নিউজের শিরোনাম, ‘লিজেন্ডারি প্লেব্যাক সিঙ্গার শাহনাজ বেগম পাসেস অ্যাওয়ে’।

শনিবার (২৩ মার্চ) রাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি ছবিতে অসংখ্য গান গেয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে দেশীয় সংগীত জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শাহনাজ রহমতুল্লাহ এর জন্ম ১৯৫২ সালের ২ জানুয়ারি। তার ডাকনাম ছিল শাহীন। ১৯৯২ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। এর দুই বছর আগে ‘ছুটির ফাঁদে’ ছবিতে গাওয়ার সুবাদে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকার সম্মান ওঠে তার হাতে।

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read
error: Content is protected !!