ডিসেম্বর ৭, ২০২২ ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ইউএস বাংলানিউজ, নিউইয়র্ক

অগ্রসর পাঠকের বাংলা অনলাইন

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদার ৭ বছর কারাদণ্ড

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।

সোমবার দুপুরে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন-বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী ও তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। আসামিদের মধ্যে জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান কারাগারে আছেন। রায় ঘোষণাকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। খালেদা জিয়া এ মামলায় জামিনে আছেন। অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তবে অসুস্থ থাকায় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দুর্নীতির দায়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আর খালেদা জিয়াকে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার দায়ে অপর তিন আসামিকে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় একই সাজার আদেশ দেন বিচারক।

এদিকে রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, আসামি খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত ট্রাস্টের মূলে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন এবং সেটা ব্যয় করেছেন। এটা কাম্য হতে পারে না। পরবর্তীতে কেউ যাতে এরকম কাজে উৎসাহিত না হন, সেজন্য তাকে (খালেদা জিয়া) কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার বলে আদালত মনে করে। একইভাবে তাকে সহযোগিতা করার জন্য অপর আসামিদের কঠোর সাজা হওয়া দরকার বলে আদালত মনে করে।

এর আগে বিচারক তার ছয় শতাধিক পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তসার প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে আদালতে পড়ে শোনান। ১৫টি বিষয় বিবেচনা করে তিনি আসামিদের সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে এদিন খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

গত ৩০ জানুয়ারি মামলাটিতে খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে আদালত বিভিন্ন সময়ে ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

মামলাটিতে খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় চার্জ গঠন করেন।

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!