মে ২১, ২০২৪ ১০:১৮ অপরাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল হচ্ছে

১ min read

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ৩ অক্টোবর, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বৈঠক শেষে সচিবালয়ে  প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

শফিউল আলম জানান, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার পর আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল সরকার গঠিত সচিব কমিটি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, ‘বেতন কাঠামোর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকবে না। তবে আগের (১৪তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বহাল থাকবে।’

কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন।

এরপর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল বা সংস্কারের প্রয়োজন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে আহ্বায়ক করে ২ জুলাই সাত সদস্যের সচিব কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পরে কমিটির মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ানো হয়।

পরে গত ১৩ই অগাস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে জানান যে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা তুলে দিয়ে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সুপারিশ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর কোটা পর্যালোচনা কমিটির মুখপাত্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিধি) আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন সচিব কমিটির সুপারিশ আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে তুলে ধরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সচিব প্রতিবেদনে গত ১০টি বিসিএসের তথ্য তুলে ধরা হয়। তথ্য বিশ্লেষণে কমিটি দেখতে পায়, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, নারী কোটায় সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় ১ দশমিক ১৭ শতাংশ প্রার্থীকে চাকরি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আর বিদ্যমান ৩০ শতাংশ কোটা সংস্কার বা বাতিল করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে মতামত চাওয়া হলে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমানো বা বাড়ানো রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার। এ-সংক্রান্ত মামলার লিভ টু আপিলের রায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।

প্রতিবেদনে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, পিএসসিও তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনগুলোয় মেধার ভিত্তিতে কোটাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে। বিভিন্ন কমিশন বা কমিটি কোটা সংস্কারে যেসব সুপারিশ করে তা-ও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। বিদ্যমান কোটা অনুযায়ী পদ পূরণের বিষয়টি যে জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, সেটিও উঠে আসে প্রতিবেদনে। আবার শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read
error: Content is protected !!