মে ৩০, ২০২৪ ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

‘তাদের দৃষ্টি অবৈধ ক্ষমতার দিকে’

১ min read

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা দেশের জনগণের কাছে যেতে পারেন না, ভোটের রাজনীতিতে তারা অচল। ভোটের রাজনীতি করতে হলে জনগণের ভোট পেতে হয়। ভোট পেয়ে এ সংসদে বসতে হয় ও সরকার গঠন করতে হয়, যদি আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অনুসরণ করতে চাই। কিন্তু এ একটা শ্রেণি আমাদের আছে তারা কিন্তু জনগণের কাছে যেতে চায় না। তারা ক্ষমতার বাঁকা পথ খোঁজে।

বুধবার (২৪ জানুয়ারী) জাতীয় সংসদে ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বাপ্পি বলেন, দেশে অনেক উন্নয়ন হলেও এবং বিশ্ব তার স্বীকৃতি দিলেও সুশীল সমাজরা উন্নয়ন চোখে দেখে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মতামত জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের গতিধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্ব স্বীকৃতি দিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য, বাংলাদেশের কিছু মানুষ, তারা এ উন্নয়নটা চোখে দেখে না। তিনি বলেন, বাংলায় তো একটা গান আছে, হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ। (এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করেন)। যারা চোখ থাকিতে অন্ধ, কান থাকতে বধির, তাদের তো হাজার বলেও দেখানো যাবে না, শোনানোও যাবে না। যারা দেখতে পায় না, শুনতেই পায় না তাদের তো আমাদের বোঝানোর কিছু নেই।

তিনি বলেন, আমার একটাই চিন্তা বাংলাদেশের মানুষ কী পেল, তারা ভালো আছে কি-না, তারা খুশি আছে কি-না, তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারছি কি-না এটাই আমাদের বিষয়। আমি জানি না এ সুশীলের ব্যাখ্যাটার অর্থটা কি? কোন তত্ত্বের ভিত্তিতে তারা সুশীল সেটা প্রশ্ন হয়ে দেখা দেয় যখন তারা কোনো কিছু দেখেনও না, শোনেনও না। তারা সুশীল না অসুশীল আমি জানি না। তবে একটা শ্রেণি আছে যাদের খুব আকাঙ্ক্ষা ক্ষমতায় যাবার। তাদের আকাঙ্ক্ষা তাদের একটি পতাকা পাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এ ধরনের কিছু মানুষ ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পায়। এ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য কিছু মানুষ খুঁজে নেয়, যারা সবসময় নিজেদের এসব অশুভ শক্তির কাছে বিক্রি করতে প্রস্তুত। যেমন আমরা রাস্তার পাসে ডাস্টবিনে লেখা দেখি ইউজ মি। তারাও রাজনীতি বা ক্ষমতার ক্ষেত্রে বুকে ও রকম একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েই বসে থাকে ইউজ মি মানে আমাকে ব্যবহার করুন। তারা সবসময় এ রকম একটা আশায় বসে থাকে। তাদের এ যে না দেখাটাও কিন্তু ও ধরনের একটা অসুস্থতা। কারণ তাদের দৃষ্টিটা রয়ে গেছে ওই অবৈধ ক্ষমতার দিকে। মাননীয় স্পিকার আমাকে একটু সময় দিলে একটি গল্প শোনাই। স্পিকার এরপর বলেন, জ্বি বলুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্কাসের একটি সুন্দরী মেয়েকে বারবার দড়ি দিয়ে ঝুলানোর চেষ্টা করেও পারছিলেন না তার ইন্সট্রাকটর। এরপর তিনি মেয়েটির পাশে রাখা একটি অথর্ব গাধাকে দেখিয়ে বলেন এরপর যদি তুমি না পার তাহলে গাধার সঙ্গে বিয়ে দেব। এ কথা শুনে গাধা আশায় আশায় থাকে কখন দড়ি ছিঁড়ে ওই মেয়ে পড়ে যাবে। আর গাধা বিয়ে করবে। আমাদের দেশের সুশীল সমাজের অবস্থা এ রকম। (এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করেন।) তবে আমি তাদের গাধা বলছি না। কারণ তারা সবাই জ্ঞানী, গুণী, শিক্ষিত। তবে তাদের আচরণগুলো যখন দেখি, আর ওই যে কবে দড়ি ছিঁড়বে, কবে কপাল খুলবে ওই আশায় যারা বসে থাকে স্বাভাবিকভাবে তখন তো একটু গাধার কথা মনে পড়ে। (আবার টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করে সরকারি দলের এমপিরা)।

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read
error: Content is protected !!