
৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা রাতের বেলা বাড়ির বাইরে টিউবওয়েলে বাসন মাজছিলেন। আচমকা আর্তনাদ করে ওঠেন তিনি। সেই আর্তনাদ শুনতে পান স্থানীয়রা। আশপাশ থেকে ছুটে আসেন তারা। আর দেখতে পান ওই বৃদ্ধাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে একটি চিতাবাঘ। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুঁড়িতে।
সোমবার (২৮ আগস্ট) সকালে স্থানীয় একটি নদীর পাড়ে বৃদ্ধার ছিন্নভিন্ন মরদেহ পাওয়া যায়। কিন্তু এ সময় বৃদ্ধার মাথা ছিল না। পরে নদী থেকে তার মাথা উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে একাই থাকতেন বৃদ্ধা সরোজিনী দেবী। রাতে তাড়াতাড়ি খেয়ে ঘরে ঢুকে যেতেন। গত রোববারও তেমনই করেছেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ির বাইরে টিউবওয়েলে বাসন মাজছিলেন।
সে সময় তার আর্তনাদ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দেখেন, পড়ে রয়েছে বাসন ও পায়ের চটি। আর টিউবওয়েলের চারিদিকের নরম মাটিতে চিতাবাঘের পায়ের ছাপ।
এদিকে বৃদ্ধাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর খবর দেওয়া বন দপ্তরকে। পাশাপাশি পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়। এরপর সারারাত খুঁজেও বৃদ্ধার কোনও সন্ধান পাননি তারা। একে রাতের অন্ধকার, তার ওপর বৃষ্টি। বাধাগ্রস্ত হয় উদ্ধার অভিযান। পরদিন বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জটেশ্বর ফাঁড়ি পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধার মরদেহ খণ্ডবিখণ্ডভাবে পাওয়া গেছে। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।
দলগাঁও রেঞ্জ সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনার পর বনকর্মীরা এলাকায় চিতাবাঘ ধরতে খাঁচা পেতেছেন। এলাকায় আতঙ্কও বেড়েছে। আপাতত সবাইকে দল বেঁধে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্তত চিতাবাঘটি ধরা না পড়া পর্যন্ত অবলম্বন করতে হবে বিশেষ সাবধানতা।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া