মে ২৯, ২০২৪ ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ভারতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে পঙ্গপাল

১ min read

ভারতে আবারো ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে পঙ্গপাল। পঙ্গপালের ঝাঁক ইতোমধ্যে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং পাঞ্জাবের শত শত একর জমির আবাদি ফসল সাবাড় করতে শুরু করেছে। এবার নতুন করে আরও লাখ লাখ পঙ্গপালের ঝাঁক ভারতে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা পঙ্গপালের ঝাঁক শুধু ভারতে নয় ঢুকে পড়েছে পাকিস্তানেও।

ফসলের জম হিসেবে খ্যাত এই পতঙ্গের বাংলাদেশে ঢুকে পড়ারও শঙ্কা রয়েছে। মাঠের ফসলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পঙ্গপালের আক্রমণ সম্পর্কে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় পঙ্গপাল সতর্কীকরণ সংস্থা আগাম সতর্ক বার্তায় বলেছে, শিগগিরই পাঞ্জাব ও রাজস্থানে ঢুকে পড়বে এসব পঙ্গপালের ঝাঁক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সংস্থাটির বরাতে বলা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে আরও লাখ লাখ পঙ্গপাল ভারতে ঢুকবে। মে মাসের মাঝামাঝি প্রথম দফায় পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোনো অঞ্চল থেকে এক ঝাঁক পঙ্গপাল ভারতের রাজস্থান রাজ্যে প্রবেশ করে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) তখন ভারতকে সতর্ক করে বলেছিল, আগামী ২২ জুনের মধ্যে পাকিস্তান থেকে আরও কয়েক ঝাঁক পঙ্গপাল ভারতে প্রবেশ করবে। সংস্থাটি বলছে, দ্বিতীয় দফায় পঙ্গপালের ঝাঁক সংখ্যায় হবে অনেক বেশি।

ভারতের পঙ্গপাল সতর্কীকরণ সংস্থা বলছে, কয়েক সপ্তাহ পরই ঝাঁকে ঝাঁকে এসব পঙ্গপাল ঢুকবে ভারতে। তারপর ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়বে এই রাক্ষুসে পোকার দল। এ নিয়ে উল্লিখিত সাত রাজ্যকে ইতোমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে এর ব্যাপকতা যেভাবে দ্রুতগতিতে ছড়াতে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ যদি জুনের মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে তাহলে ধান, ভুট্টা, বেত, তুলা ও সয়াবিনসহ হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ধ্বংস হয়ে যাবে।

মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে পঙ্গপাল বাংলাদেশে হানা দেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সাউথ এশিয়া বায়োটেক সেন্টারের পরিচালক ভাগীরথ চৌধুরী বলেন, ‌‘অভূতপূর্ব মাত্রায় পঙ্গপালের আক্রমণ শুরু হলেও আপাতত ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে মনে করছি না। এখনই তা নিয়ন্ত্রণের মোক্ষম সময়।তা না হলে গ্রীষ্মকালীন ফসলগুলো আমরা হয়তো সংরক্ষণ করতে পারবো না। সামনের দিনগুলোতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি করেছে ভারতে পঙ্গপাল। কেননা প্রথম হানা দিয়েছে পশ্চিম ভারতের রাজস্থান, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে। সেখান থেকে মধ্যাঞ্চলের মধ্যপ্রদেশ ও পাঞ্জাবে। এরপর তা ছড়িয়েছে উত্তরের হরিয়ানা ও দেশটির সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। সাউথ এশিয়া বায়োটেক সেন্টারের পরিচালক ভাগীরথ চৌধুরী বলেন, মূলত তাপমাত্রা যত বেশি হবে পঙ্গপাল তত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।’

এদিকে পঙ্গপাল নিধনে ১১টি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে ভারত। সেখান থেকে বিশেষ স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে কীটনাশক ছিটানোর কাজ চলছে। রাজ্য পরিচালিত পঙ্গপাল সতর্কতা সংস্থাকে (এলডব্লিউও) সহায়তা দিয়ে সমস্যা মোকাবিলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারে কৃষি প্রতিমন্ত্রী কৈলাস চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকার এলডব্লিউও কর্মী বাড়িয়েছে। জরিপ ও কীটনাশক স্প্রে করার জন্য নতুন সরঞ্জাম ও যানবাহন কিনেছে। একাধিক রাজ্যের ফসলি জমির কাছে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কীটনাশক গাড়ি মজুত করা হয়েছে বলেও দেশটির সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। এছাড়া ৬০টি কীটনাশক গাড়ি তৈরি করা হয়েছে। ড্রোনের সাহায্যে চলছে নজরদারি। দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও (এনডিআরএফ) প্রস্তুত করা হচ্ছে।

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read
error: Content is protected !!