ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪ ৭:২৯ অপরাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ

১ min read

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচও জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ৪ রানের ব্যবধানে সফরকারীদের হারিয়েছে টাইগাররা। শুরুতে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান তুলতে সমর্থ হয় সফরকারীরা।

তবে শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শেষদিকে বেশ রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে দুদল। শেষ ওভারে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০ রান। বোলিংয়ে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। মিরপুরের মন্থর উইকেটে মুস্তাফিজ বেশ কার্যকর। তবুও আজ ছন্দ হারালেন কাটার মাস্টার। করলেন নো বল, ওই বলও আবার হলো সীমানা ছাড়া! হঠাৎ দান উল্টে গেল, বেড়ে গেল কিউইদের জয়ের সম্ভাবনা। শেষ ২ বলে সফরকারীদের দরকার পড়ে ৮ রান। তবে ‘ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে’র স্টাইলে ম্যাচের শেষ হাসিটা হেসে নিলেন মুস্তাফিজই। শেষ দুই বলে কাটার মাস্টার দিলেন মাত্র ৪ রান। তাতেই ৪ রানের জয় নিশ্চিত হয় টাইগারদের। টানা জয়ের ছন্দটাও তাতে টিকে থাকল ঠিকঠাক।

অস্ট্রেলিয়ার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও পাঁচ ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশের। সিরিজ এখনো শেষ হয়নি, মাত্র দুটি ম্যাচ হয়েছে। যেখানে প্রথমটিতে ৭ উইকেটে হারানোর পর আজ দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ রানের জয় টাইগারদের।

২য় ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা দেয়, এই ম্যাচটি ক্যান্সার যোদ্ধাদের উৎসর্গ করে খেলতে নামবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে অবশ্য এমন ব্যতিক্রম ভাবনা সহসা দেখা যায় না। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে একবার রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের খেলোয়াড়দের পরিবর্তে জার্সিতে তাদের মায়েদের নাম লিখে খেলতে নেমেছিল। সেটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে আজও।

তবে আজ বিসিবির এমন কোনো আয়োজন চোখে পড়ল না। নামেই ক্যান্সার যোদ্ধাদের স্মরণ, এর কোনো ছাপ দেখা গেল না কাজেকর্মে! অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘পিংক ডে’ পালিত হয়। ম্যাচের দিন গোলাপি রঙয়ে ছেয়ে যায় গোটা স্টেডিয়াম। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকা দলের জার্সিও বদলে হয়ে যায় গোলাপি! একই চিত্র দেখা যায় লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিন। লাল রঙয়ে পূর্ণতা পায় ঐতিহ্যের লর্ডস। এর সবই ক্যান্সারের বিপক্ষে সচেতনার জন্য আয়োজন!

আজ বাংলাদেশ ক্রিকেটেও হতে পারত তেমন একটি স্মরণীয় দিন। কিন্তু সাকিবরা মাঠের নামার আগে-পরে দেখা গেল না এ নিয়ে বিশেষ কোনো আয়োজন।

সে প্রভাব অবশ্য মাঠের লড়াইয়ে পড়ল না। নিউজল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজের আগে ১০ টি-টোয়েন্টিতে যেখানে কোনো জয় ছিল না বাংলাদেশের, সেখানে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে জয়ের পর আজ দ্বিতীয় ম্যাচেও ৪ রানের জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। এতে টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ দল। এবার অপেক্ষা সিরিজ জয়ের।

টস জিতে আগে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে ১৪১ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেনি ব্ল্যাকক্যাপসারা। অধিনায়ক টম লাথাম অবশ্য একপ্রান্ত আগলে রেখে জয়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে তার এ লড়াই কাজে আসেনি। বাকিদের ব্যর্থতায় জয়ের খুব কাছে গিয়েও ফল পায়নি কিউইরা। বাংলাদেশের ১৪১ রানের জবাবে তারা তুলতে পারে ১৩৭ রান।

যদিও মাঝারি মানের এ টার্গেট টপকাতে নেমে ভালো শুরুর বার্তা দেন কিউইদের দুই ওপেনার রাবীন্দ্র রাচিন ও টম ব্লান্ডেল। উদ্বোধনী জুটিতে ১৬ রান যোগ করে সাকিবের বলে আউট হন রাচিন। পরের ওভারে সফরকারী শিবিরে আঘাত হানেন শেখ মেহেদী হাসান। ফেরান ৬ রানে থাকা ব্লান্ডেলকে। এরপর অধিনায়ক টম লাথাম ও উইল ইয়াংয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় উইকেটে তাদের পার্টনারশিপ থেকে আসে ৪৩ রান।

ইয়াং ২০ রান করে সাকিবের বলে আউট হলে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম আর হ্যানরি নিকোলসও সুবিধা করতে পারেননি। সতীর্থদের আসা-যাওয়া ক্রিজে দাঁড়িয়ে দেখেন লাথাম। একপ্রান্ত আগলে রেখে অবশ্য ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন তিনি।

সাকিব-মেহেদীদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য কিউইদের প্রয়োজন পড়ে ২৮ রান। পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১৯তম ওভারে দেন ৮ রান। শেষ ওভারে দরকার পড়ে ২০ রান, মুস্তাফিজ দেন ১৬ রান।

এর আগে ইনিংসের গোড়া পত্তন করতে নেমে কোল ম্যাককঞ্চির করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই খালি হাতে ফিরতে পারতেন লিটন। স্কয়ার লেগে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। জীবন পেয়ে এজাজ প্যাটেলের পরের ওভারেই টানা দুইটি চার মারে লিটন। চতুর্থ ওভারে হামিশ বেনেটকে দিয়ে পেস আক্রমণ আনেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম। সময়ের সাথে সাবলীল ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রান তুলে ফেলে নাঈম-লিটন জুটি।

এ ম্যাচের আগে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল নিজেদের ওপেনিং পার্টনারশিপে পঞ্চাশ রান পার করতে পেরেছিল জিম্বাবুয়ে সফরের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। এরপর মাঝে চলে গেছে ৮ ম্যাচ। এমনকি পাওয়ার প্লের ৬ ওভারও শেষ করে আসতে পারেনি কোনও ওপেনিং জুটি। কিউইদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে লিটন আর নাঈম সে আক্ষেপে খানিক প্রলেপ দিয়ে উদ্বোধনি জুটিতে জমা করেন ৫৯ রান।

ইনিংসের ১০তম ওভারের তৃতীয় বলে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম সাফল্য এনে দেন রাচিন রবীন্দ্র। বাঁহাতি এই স্পিনারের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন লিটন। ফিরেছেন ২৯ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩৩ রান করে। ক্রিজে এসে প্রথম বলেই স্টাম্পিং মুশফিকুর রহিম। হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগে রবীন্দ্রের। বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে পড়তে দেননি সাকিব আল হাসান। তবে ২ চারে ৭ বলে ১২ রান করে ফিরতে হয় তাকেও। ম্যাককঞ্চির বলে বেন সিয়ার্সকে ক্যাচ দেন তিনি।

৭২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন নাঈম-মাহমুদউল্লাহ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৩৪ রান জমা করেন দুজন। নাঈম ব্যক্তিগত ফিফটির দিকে ছুটছিলেন বটে, তবে ৩৯ রানে তাকে নিজের তৃতীয় শিকার বানিয়ে থামান রাচিন। ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকেননি আফিফ হোসেনও (৩ বলে ৩)। এরপর রানের গতি মন্থর হলেও শেষ দুই ওভারে মাহমুদউল্লাহও নুরুল হাসান সোহান ২৪ রান তুলে ১৪১ রানের দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করান।

সোহান ৯ বলে ১৩ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হলেও মাহমুদউল্লাহ ৩২ বলে ৫ চারে ৩৭ রানে  অপরাজিত থাকেন। কিউইদের হয়ে রাচিন রবীন্দ্র নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট।

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!