জুন ১৬, ২০২৪ ৫:৫৪ অপরাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

কলম্বাস (১ম পর্ব)

১ min read

ছিলেন তিনি ইতালি দেশের নাগরিক, বাবা জীবিকা’র জন্য তুলা, সুতা আর কাপড় নিয়ে কাজ করতেন , ছোট বেলায় কলম্বাস বাবার কাজ গুলি নিয়ে নাড়াচারাও করতেন ,তখন থেকেই তিনি জানতেন ভারতবর্ষের কথা বিশেষ করে কাপড় এবং মশলাপাতি ,তখন ব্যাবসায় ভারতের রমারমা অবস্থা।

সে সময় আরবদের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়া’র বিভিন্ন দেশে ভারতের সাথে স্থলপথে যোগাযোগ ছিল। পথ ছিল দীর্ঘ ।

তাই বিভিন্ন দেশ সমুদ্র পথ আবিস্কার করার পন্থা খুজতে লাগলো। কলম্বাস মানচিত্র দেখতেন আর নানান ভাবে চিন্তায় চেতনায় নতুন নতুন দেশ বিশেষ করে ভারতবর্ষ আবিস্কারের স্বপ্ন দেখতেন।

সেকারণে তিনি তার পরিকল্পনা নিয়ে নিজ দেশে জেনোয়ায় রাজ দরবারে জানালেন, হতাশ হতে হলো। তারপর পর্তুগাল, ইংল্যান্ড। নিরাশ হতে হলো। মন ভেঙে গেলো তাই বলে হাল ছাড়লেন না। এবার এলেন স্পেনে। রাজা ফার্দিনান্দ ও রানী ইসাবেলা সব শুনে রাজী হলেন কিন্তু শর্ত না মেলায় কাজের কাজ কিছুই হলো না। কলম্বাসের শর্ত ছিলো -জীবন বিপন্ন করে যে নতুন দেশে যাবেন, সে দেশের রাজ প্রতিনিধি করতে হবে তাকে এবং রাজস্বের অংশ দিতে হবে। রাজা এবং রাজসভা এই শর্ত শুনে কলম্বাস কে সাহায্য করতে রাজী হলো না ।

অগত্যা স্পেনে জীবন- জীবিকা’র জন্য কলম্বাস আট বছর উমেদারী করে কাটালেন, পত্নী মারা গেলো। সব আশা ত্যাগ করে নিজ জন্মভূমিতে ফেরার জন্য প্রস্তুত হলেন। ওখানে দারিদ্রতা আর পাওনাদারদের চাপের মুখে অবশিষ্ট পোটলা-পুটলী বেধে প্যারিসের রাজ দরবার হয়ে দেশে যাবার জন্য তৈরী হলেন। রানী ইসাবেলার কনফেসর যে পদরী তিনি দেখলেন কলম্বাসের পরিকল্পনা এবং তার দেওয়া শর্ত অন্য দেশ মেনে নেয় তাহলে এই কৃতিত্বের গৌরব থেকে স্পেন বন্চিত হবে তাই তিনি রানী কে রাজী করালেন, একান্তে কথা হলো রানী জানালেন, “রাজা রাজী না হলেও প্রয়োজনে নিজের অলংকার বন্ধক দিয়ে অভিযানে

র অর্থ যোগার করবো’’।পাদরী রানী কে বুঝিয়ে ছিল, আবিস্কৃত দেশে খৃস্টান ধর্মে জনগন কে দীক্ষিত করা যাবে,সেই সাথে রাজকোষ ধনে পূর্ন হবে এবং বিশ্বে মান বাড়বে।

১৪৯২সালে ৩ আগস্ট শুক্রবার পালোস বন্দর থেকে নাবিক কলম্বাস ৩ টি জাহাজ পিন্টা, নিনা এবং সান্তা মারিয়া’য় ১২০ জন লোক নিয়ে ভারতবর্ষের দিকে যাত্রা করলো। ২১দিন চলার পর মাটির কোন চিহ্ন দেখা পাওয়া গেলো না।নাবিকরা অধৈর্য হয়ে উঠল।কাহাতক ভাল লাগে শুধু চারিদিক পানি আর পানি, ঢেউ আর বাতাস সব মিলিয়ে ফিরে যাবার বায়না ধরলো লোকেরা,অবশেষে ১২ সেপ্টেম্বর রাত ২ টার সময় পিন্টা জাহাজ থেকে কামান গর্জে উঠল, অন্য জাহাজ থেকে কলম্বাস চমকে উঠলেন, তবে কি নাবিকেরা বিদ্রোহ করলো? পরক্ষনেই চিৎকার মাটি মাটি।

কলম্বাস ধরে প্রাণ ফিরে পেলেন, তিনি শান্তভাবে খ্রিস্ট মূর্তির সামনে প্রার্থনা করলেন, প্রভু,তোমাকে ধন্যবাদ,আমি ভারতবর্ষের সন্ধান পেয়েছি।মজার বিষয় হলো কবরে যাবার দিন পর্যন্ত কলম্বাসের এই বিশ্বাস অটুট ছিল যে, তিনি ভারতবর্ষ আবিস্কার করেছেন।সে দিন তিনি যে স্হলভাগ দেখলেন-সেটা ভারতবর্ষের পশ্চিমদিক-অতএব ওখানকার নাম হলো ভারতীয় দ্বীপপুন্জ(ওয়েস্ট ইন্ডিজ) এবং ওখানকার অসভ্য অধিবাসীরা হলো ইন্ডিয়ান।রং যেহেতু লালচে তাই বলা হলো রেড ইন্ডিয়ান।

পরদিন সকালবেলা কলম্বাস সদলবলে দ্বীপে অবতরণ করে স্পেনের রাজার নামে পতাকা উড়িয়ে দিলেনআর দ্বীপটির নাম দিলেন ‘সান সালভাডর’।সেখানকার আদিবাসীর কাছে সোনার সন্ধান করলেন, উপহার কিছু দিলেন বিনিময়ে তারা ভারী ভারী সোনার তাল দিলো। এই স্বর্নের খনির খোঁজ পেয়ে ৩৯ জন নাবিক রেখে ছুটলেন অন্য দ্বীপে,অনেক সোনা নিয়ে স্পেনের পানে ছুটলেন। যাবার পথে কিউবা হাইতি অনেক ছোট ছোট দ্বীপ পেয়ে তাদের নামকরন করে ঝড় ও তীব্র প্রতিকূল আবাহাওয়া অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছালেন । ৬ মাস অভিযানের পরে। তখনতার জামা কাপড় জীর্নদশা শরীর ক্লান্ত। কিন্তু চোখে মুখে জয়ের গৌরব। রাজারানী তখন বার্সিলোনায়, কলম্বাস চল্লেন রাজ প্রসাদে দেখা করতে।যেদিন তিনি বার্সিলোনা শহরে পৌঁছালেন সেদিন তার আগমনী বার্তা পেয়ে সমস্ত নগরী সেদিন উৎসবসজ্জায় সেজেছে তাকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্য।রাজসভায় সিংহাসনের পাসেই তার স্হান হল। আবিস্কৃত দেশের নানা উপহার তিনি সামনে বিছিয়ে দিলেন -তারপর ভ্রমণের রোমাঞ্চকর গল্প বলা শুরু করলেন।

(চলবে)

-ফাহীম রেজা নূর

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!