আগস্ট ১৭, ২০২২ ৭:৩১ অপরাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ইউএস বাংলানিউজ, নিউইয়র্ক

অগ্রসর পাঠকের বাংলা অনলাইন

ঘরে চাষ করেই নিন টাটকা অ্যালোভেরার উপকার

প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর গুনের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। রাস্তাঘাটে কিংবা বাজারে অহরহ পাওয়া যাচ্ছে অ্যালোভেরা। এটি রস হিসেবে খাওয়া যায় আবার ত্বকের প্রদাহে প্রতিষেধক হিসেবেও লাগানো যায়।এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, জিংক, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন-এ, বি৬ ও বি২ ইত্যাদি, যা স্বাস্থ্যরক্ষার বিভিন্ন কাজে লাগে।

ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা আমাদের কি কি উপকারে আসে….

হজম প্রক্রিয়া বৃদ্ধিতে: হজম শক্তি বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরার তুলনা হয় না। এর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান পাকস্থলী ঠাণ্ডা রাখে এবং গ্যাসের সমস্যা দূর করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি বা গুড়ের শরবতের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: যারা ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত অ্যালোভেরা রস খেলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে আনতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

  চুলের যত্নে: চুলের শুষ্ক ভাব এবং ত্বকে চুলকানি দূর করার জন্য অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারবেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান চুল পড়া ও খুশকির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে। তাই অ্যালোভেরা রসের সঙ্গে আমলকীর রস মিশিয়ে চুলে লাগালে এতে চুলের উজ্জ্বলতাও বেড়ে যাবে।

  ত্বকের যত্নে: বহু বছর ধরে ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ত্বকে র‌্যাশ,  চুলকানি, রোদে পড়া দাগ দূর করতে অ্যালোভেরার তুলনা হয় না। যেকোনো উপটান বা প্যাক অথবা সরাসরি এই জেল লাগালে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ থাকে এবং বয়সের ছাপ মুছে যায়।

  ওজন কমাতে: ওজন কমাতে অ্যালোভেরার জুস অনেক বেশ কার্যকরী। অ্যালোভেরা জুসের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের জমে থাকা মেদ দূর করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ওজন কমাতে সাহায্য করে।

  হার্ট ও দাঁতের যত্নে: অ্যালোভেরার জুস কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রাখে। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে দেয় এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা ও ইনফেকশন নিবারণে সহায়তা করে।

বাসার টবেই লাগিয়ে ফেলতে পারেন অ্যালোভেরা গাছ…

অ্যালোভেরার একটি পাতা থেকেই হবে গাছ। খুব বেশি যত্নআত্তিরও প্রয়োজন নেই এই গাছের। চাষের জন্য কয়েকটি অ্যালোভেরার পাতা সংগ্রহ করুন। লক্ষ রাখবেন যেন নিচের দিকের সাদা অংশটি থাকে পাতার সঙ্গে।

এবার সাধারণ মাটির মাঝে গর্ত করে বসিয়ে দিন অ্যালোভেরার পাতা। পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিন মাটি। শেকড় গজাতে শুরু করলে বড় পাত্রে সরিয়ে দিতে পারেন পাতা। চাইলে একবারেও বড় টবে লাগাতে পারেন।

তবে আরেকটি উপায়ে অ্যালোভেরার পাতা থেকে গাছ গজাবে। অ্যালোভেরার পাতা মাঝখান থেকে কেটে নিন ধারালো ছুরির সাহায্যে। দুই সপ্তাহ উষ্ণ স্থানে রেখে দিন পাতা। বাদামি রং হয়ে আসলে টবে লাগান। তবে নিচে যেন ছিদ্র থাকে সেদিকে লক্ষ রাখবেন।

ঝরঝরে মাটি দিয়ে দিন টবে। মাটির মাঝে অ্যালোভেরার পাতা গুঁজে পানি দিয়ে দিন। এমন জায়গায় রাখবেন যেখানে সরাসরি রোদ আসে। পানি দিতে হবে প্রতিদিন। ৪ সপ্তাহের মধ্যেই বাড়তে শুরু করবে অ্যালোভেরা গাছ।

গাছ দ্রুত বৃদ্ধির জন্য

অ্যালোভেরা গাছ দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করতে পারেন। সার তৈরির জন্য ৪/৫টি ডিমের খোসা চূর্ণ করে নিন। মুঠোভর্তি আলুর খোসা, কয়েকটি কলার খোসা ও ডিমের খোসা দেড় লিটার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পাত্র ঢেকে রাখবেন। ৩ দিন পর ফেনা উঠে গেলে মিশ্রণটি ছেঁকে পানি আলাদা করুন। অ্যালোভেরা গাছে প্রতি ১৫ দিন পর পর এই পানি দিন।

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!