আগস্ট ১২, ২০২২ ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ইউএস বাংলানিউজ, নিউইয়র্ক

অগ্রসর পাঠকের বাংলা অনলাইন

অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিন: টিআইবি

ভারত, চীন ও জাপানকে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি অবশ্য বলেছে, বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়ার যথার্থতা রয়েছে। সোমবার (১৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় স্বার্থের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এ ধরনের উদ্যোগের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশিত ফল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণের ওপরভিত্তি করে অগ্রসর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ভারত, চীন ও জাপানকে বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সময়োপযোগী এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা বিতর্কের ঊর্ধ্বে হলেও এসব অঞ্চল প্রতিষ্ঠারশর্তাবলিসহ স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের লাভের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগের ঝুঁকি, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শিল্পকারখানার ধরন, পরিবেশগত সমীক্ষা ও মুনাফার বণ্টনের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়নি। এ ছাড়া স্থানিক প্রভাব, স্থানীয় জনগণের কতটা সম্পৃক্ততা থাকছে বা তাদের জীবন-জীবিকায় কতটা প্রভাব পড়বে— সেসবও স্পষ্ট নয়। এসব বিষয়ের পর্যাপ্ত বিশ্লেষণ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ায় কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সার্বিক সব বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ না করেই কৃষিজমি ব্যবহার করে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয় বিবৃতিতে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে যথাযথ পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও স্থানিক প্রভাব সমীক্ষার ওপর নির্ভর করে অগ্রসর হওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিরসরাইয়ে ভারতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলটি উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আদানি গ্রুপকে। ভারতীয় এই শিল্পগোষ্ঠী এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে পরিবেশবিধ্বংসী কয়লা খনি প্রকল্প নিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত। এই ধরনের বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিবৃতিতে। শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে চীনের আগ্রাসী বিনিয়োগ কৌশলের নেতিবাচক প্রভাবের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় না নিয়ে দেশটির সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ অপরিণামদর্শী হবে বলেও টিআইবি মনে করে।

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!