মে ২৭, ২০২৪ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

শেখ হাসিনাকে ট্রাম্পের চিঠি

১ min read

মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে পাঠাতে চাপ দেবে যুক্তরাষ্ট্র, শেখ হাসিনাকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প এ আশ্বাস দিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক নেতৃত্বদানের জন্য তার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য মিয়ানমারের প্রতি চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।’

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই চিঠি হস্তান্তর করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন নেই যে এই সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ী মিয়ানমারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

প্রেস সচিব জানান, ট্রাম্প বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে উদার মানবিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া একটি বিরাট বোঝা, তবে বিশ্ববাসী জানে বাংলাদেশের পদক্ষেপে হাজার হাজার জীবন রক্ষা পেয়েছে।

ট্রাম্প চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনার পদক্ষেপে বাংলাদেশের জনগণের চরিত্র ও দৃঢ়তা প্রতিফলিত হয়েছে, এটি তারা অর্জন করেছে ১৯৭১-এর কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে।

নিজ দেশকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সহায়তাকারী দাতাদেশ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সহযোগিতায় পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।’

tr

ট্রাম্প বলেন, আমি আশা করি বাংলাদেশ এই নেতৃত্ব অব্যাহত রাখবে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের প্রাক্কালে ভূমিকা পালন করবে, যা গোটা বিশ্ব থেকে বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে পত্র দেয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ভাসানচর নামের একটি দ্বীপ উন্নয়ন করছে। কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়ায় স্থানীয় জনগণের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানকার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউএসএইড বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের সহায়তার জন্য কর্মসূচি নিয়ে থাকে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সমস্যা লাঘবে ইউএন সিস্টেমের অধীনে ইউএসএইড কাজ করে যাচ্ছে।

বার্নিকাট প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ইউএসএইড প্রেসিডেন্ট মার্ক গ্রিন এবং কার্টার সেন্টারের সিইও ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ম্যারি এ্যান পিটার্স বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে খুব শিগগির বাংলাদেশ সফর করবেন।

এছাড়াও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন মার্কিন দূত এবং গ্লোবাল ওমেন লিডাশিপ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান।

-বাসস

Comments

comments

More Stories

১ min read
১ min read
১ min read
error: Content is protected !!