নভেম্বর ২৭, ২০২০ ৮:১৬ অপরাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ইউএস বাংলানিউজ করপোরেশন, নিউইয়র্ক

অগ্রসর পাঠকের বাংলা অনলাইন

পঁচাত্তরের পর ক্ষমতায় থাকতে লুটপাটের দরজা খুলে দেওয়া হয়

পঁচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা লুটপাটের সুযোগ করে দিয়ে এমন একটি শ্রেণি তৈরি করে যাতে তাদের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে।

রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের রজতজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা ৬০ জেলা সৃষ্টি করে জেলা গভর্নর নিয়োগ দিয়ে প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ক্ষমতাটাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের সেই সম্ভাবনাটা নস্যাৎ হয়ে যায় জাতির পিতাকে হত্যার মধ্যদিয়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা কারা- এ দেশের স্বাধীনতা যারা চায়নি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন গণহত্যা চালায়, তারা সেই গণহত্যার সঙ্গে শরিক ছিল। …মা-বোনদের তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘যারা সংবিধান লঙ্ঘন করে, মার্শাল ল’ জারি করে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা একটি এলিট শ্রেণি তৈরি করেছিল। দুর্নীতির দরজা খুলে দিয়েছিল। …লুটপাটের সুযোগ অবাধে করে দিয়ে এমন একটি শ্রেণি তারা তৈরি করে দিয়ে যায়, যাতে তাদের ওপর নির্ভর করে তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে।’

‘আমাদের অনেকে তাদের সঙ্গে হাতও মিলিয়েছিল এবং তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। যারা আমাদের স্বাধীনতাকে সমর্থন করেনি, দেশি-বিদেশি চক্র তাদের সমর্থন দিয়েছিল’ যোগ করেন শেখ হাসিনা।

এরপর একুশ বছর দেশের মানুষ অন্ধকারে ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষদের অসহায় করে রাখা, দরিদ্র করে রাখা এবং দরিদ্র হাড্ডিসার মানুষকে দেখিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে সাহায্যের নামে টাকা এনে তা পকেটস্থ করা (আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া অন্যরা) নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হত্যা, গুম-খুন থেকে শুরু করে কেউ কথা বললে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যেত। সেই নির্যাতনের শিকার আমাদের দলের লোকজনই বেশি। তখন এমন একটি অবস্থা ছিল।

তিনি বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করেছিল সরকার জনগণের সেবক। আমি সে ঘোষণাটাই প্রথম দিয়েছিলাম। সেই নীতিতেই কাজ করে যাচ্ছি জাতির পিতার স্বপ্নটা পূরণ করার জন্য।’

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে যেভাবে পারেন, আপনারা রিপোর্ট করতে পারেন আমরা বাধা দিইনি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতাও আপনাদের সে সুযোগটা দিয়েছিল। তিনিও সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। …ইত্তেহাদ নামে একটি পত্রিকা বের হয়, সে পত্রিকার সঙ্গে উনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আসলে সংবাদপত্রকে তো বলা হয় সমাজের দর্পণ। সমাজের দর্পণ যেটা হবে, সেটা যেন সমাজের মানুষের চিন্তা-চেতনাটা (ধারণ করে)। অন্তত তারা যেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়, মানবতাবোধটা যেন থাকে, তারা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সময় আমাদের দেশে যতই দুর্নীতি হোক, যতই অন্যায় হোক সেগুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হতো। …আমাদের সরকার কিন্তু তা করছে না। কোনো দুর্নীতি বা অন্যায় হলে পরে আমরা কিন্তু এই চিন্তা করি না আমার দল জড়িত কিনা, পার্টির বা সরকারের বদনাম হবে কিনা।’

‘আমরা চিন্তা করি অন্যায় হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা নিতে গিয়ে দোষটা আমাদের ওপর এসে পড়ে- যেন আওয়ামী লীগ সরকারই যেন দুর্নীতি করছে; বিষয়টা তা নয়’ যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে পঁচাত্তরের পরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলো। প্রথমে জিয়াউর রহমান, এরপরে এরশাদ, এরপরে খালেদা জিয়া। তারা শুধু দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ই দেয়নি, নিজেরাও দুর্নীতিতে জড়িত ছিল এবং দুর্নীতিকে লালন-পালন করে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা কিন্তু তা করছি না।’

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের দেওয়া মৌলিক অধিকার চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করতে গেলে অপরের প্রতি যে দায়িত্ববোধ, দেশের প্রতি যে দায়িত্ববোধ এবং রাষ্ট্রের প্রতি যে দায়িত্ববোধ, সেই দায়িত্ববোধটাও থাকতে হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যেমন অনেক ধন্যবাদযোগ্যও কাজও করেন, আবার এমন রিপোর্ট করবেন না যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়, বিপথে যায়।’

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!