অক্টোবর ২৭, ২০২০ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ || ইউএসবাংলানিউজ২৪.কম

ইউএস বাংলানিউজ করপোরেশন, নিউইয়র্ক

অগ্রসর পাঠকের বাংলা অনলাইন

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশ

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক। তাকে বাংলাভাষার “শুদ্ধতম কবি” বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অগ্রগণ্য। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম কবিতে পরিণত হয়েছেন। তিনি প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তবে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে অকাল মৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ২১টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প রচনা গ্রন্থ করেছেন যার একটিও তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেননি। তার জীবন কেটেছে চরম দারিদ্রের মধ্যে। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধকাল অনপনেয়ভাবে বাংলা কবিতায় তার প্রভাব মুদ্রিত হয়েছে। রবীন্দ্র-পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার প্রধান কবি হিসাবে তিনি সর্বসাধারণ্যে স্বীকৃত। জীবনানন্দ দাশের আজীবন স্মৃতি বিজড়িত অতিপ্রিয় ‘ধানসিঁড়ি নদী’। ধানসিঁড়িকে কেন্দ্র করেই তিনি লিখেছেন ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি। কবি জীবনানন্দ দাশ ধানসিঁড়ির তীরে হয়তো আর আসবেন না, কিন্তু তার স্মৃতি আজো ধানসিঁড়ির আকাশে-বাতাসে মিশে আছে।

১৯৮৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলা শহরে জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন। ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে? কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’ কবিতার কবি কুসুমকুমারী দাশের সন্তান জীবনানন্দ দাশ। বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের বেখেয়ালী জীবন কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। তিনি ছেলেবেলা থেকেই মায়ের প্রভাবে কবিতা লিখতে শুরু করেন। ১৯১৯ সালে ‘বর্ষা আহ্বান’ কবিতাটি ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । তখন তিনি শ্রী জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নামে লিখতেন। ১৯২৭ সাল থেকে জীবনানন্দ দাশ নামে লিখতে শুরু করেন। ঝরা পালক, রূপসী বাংলা, ধুসর পাণ্ডুলিপি, মহাপৃথিবী, বনলতা সেন, সাতটি তারার তিমির জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যসমগ্র।

পৃথিবীর মায়া ত্যাগের নিষ্ঠুর পূর্বাভাস যেন তাঁরই কবিতায়। কবি বলেছেন, ‘মনে হয় একদিন আকাশে শুকতারা দেখিব না আর; দেখিব না হেলেঞ্চার ঝোপ থেকে এক ঝাড় জোনাকি কখন নিভে যায়।’

কবির এ আশঙ্কা সত্যে পরিণত হয় ১৯৫৪ সালে। ১৪ অক্টোবর তিনি ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন। তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। এরই মধ্যে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। অবশেষে ২২ অক্টোবর রাতে জীবনানন্দের জীবনাবসান ঘটে।

আরও পড়ুন

error: Content is protected !!