JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
বাঙ্গালী সংস্কৃতি, রাজনৈতিক কূটচাল এবং আস্থার সংকট – আবু সাঈদ রতন

বাঙ্গালী সংস্কৃতি, রাজনৈতিক কূটচাল এবং আস্থার সংকট – আবু সাঈদ রতন

রাজতৈক, সামাজিক, অর্থনৈতিক কালচার নিয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের সমাজ,কালের পরিক্রমায় এসব আমাদের পরিণত হয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যে। একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কালচার সেই দেশের পরিচয়কেই বহন করে। দেশ থেকে দেশান্তরে প্রজন্ম দেকে প্রজন্মে। আমাদের দেশ ও এর থেকে পিছিয়ে নেই। নানান ইতিহাস ঐতিহ্যের ভরপুর আমাদের বাংলাদেশ। কালের পরিক্রমায় তেমনি আমাদের বাঙ্গালীর ঐতিহ্য বৈশাখ উদযাপন আমাদের নানা পার্বনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাড়িয়েছে।
সম্প্রতিক কালে ধর্মীয় উগ্রবাদ এই স্বাভাবিক চলমান বাঙ্গালী কালচারকে তার চলার পথকে ক্রমশ সংকীর্ণ কবার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বৈশাখী উৎসবকে হিন্দুয়ানী বলে একটি বিশেষ ধর্মের উৎসব বলে বানিয়ে নেয়ার ঘটনা চলছে।
আসলে এর নেপথ্যে কাজ করছে রাজনৈতিক কুটচালা আবহমান বাঙ্গালী সংস্কৃতির ধারক বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এই সংস্কৃতিকে বিশ্বাস করে বলেই তার প্রধান বিরোধী দল বি.এন.পি জামাত সহ একটি সাম্রদায়িক দল এর বিরোধীতা করেছে। যেহেতু আওয়ামীলীগের সাথে ভারতের একটি সু-সম্পর্ক হয়েছে এর ৭১ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অবদান রয়েছে সেহেতু ভারত বিরোধীতা বলে দেশে একটি বিভাজন তৈরীতে কাজ করছে এসব সম্প্রদায়িক দলগুলো। এই স্বাধীনতা বিরোধী দলগুলো ৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে এবং স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে।
এখন প্রশ্নহলো মুক্তিযোদ্ধের ধারক বাহক বলে দাবিদার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ হঠাৎ করেই সম্প্রদায়ীক আচরণ করতে শুরু করেছে কেন?। হেফাজতের সাথে দলটি অনেক ক্ষেত্রেই আপোষণ করছে পাঠ্য পুস্কুক সংশোধন, হাইকোর্টের সামনে মূর্তী, কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি, একসাথে শফী হুজুরের সাথে মোনাজাতে অংশগ্রহন মুক্তিযুদ্ধের ও প্রগতিশীল চেতনা মানুষগুলোকে একটি গোলক ধাধায় ফেলে দিয়েছে। আসলেই কি শেখ হাসিনা এই পথে পা দিচ্ছেন ভবিষ্যতের কিছু না ভেবেই?
সাম্প্রতিক ইতিহাস কিন্তু সে কথা বলে না। শেখ হাসিনা খেলেছেন একজন দক্ষ ব্যাটসম্যান হিসাবে। তার বুদ্ধির কৌশলের সমকক্ষ আর কাউকে রাজনীতির মাঠে পাওয়া যাবে না। একদিকে যখন তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকের কথা উঠেছে অন্যদিকে মুফতি হান্নান সহ তিন জঙ্গীর ফাঁসী কার্যকর হয়েছে; অনেকটা নিভৃতিতে। দেলোয়ার হোসেন সাঙ্গদীর আপিল রিভিও যে কোন দিন; রায় হবে।
একের পর এক জঙ্গী অভিযান চলছে সফল ভাবেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ চলছে পুরোদমে। যখন এ বিচার কাজ শুরু হয় তখন অনেকেই বলেছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে না,
এটা একটা প্রহশন। তারপর যখন বাঘা বাঘা রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ধরা পরলো তখনও বলতে শোনা গেল গ্রেফতার হয়েছে কিন্তু সাজা হবেনা। তারপর যখন সাজা হলো তখন বলা হলো সাজা হয়েছে কিন্তু রায় কার্যকর হবে না।
সারা বিশ্ব দেখেছে শেখ হাসিনা কিভাবে রায় গুলো কার্যকরের পথ সহজ করে দিয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের হুমকী সত্ত্বেও শেখ হাসিনা তার আদর্শে এবং লক্ষ্যে স্থীর থেকেছে। ঠিক তেমনি জেলহত্যা মামলা, ১৫ই আগষ্ট স্ব-পরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাগুলো কিভাবে কার্যকর করেছে তাও কিন্তু দেশবাসী দেখেছে। তারপরও কি শেখ হাসিনার উপর এত সহজেই আস্থা হারিয়ে ফেলা উচিত?
রাজনৈতিক মাঠে যে খেলে সেই বুঝে কিভাবে খেলতে হয়। কখন কার সাথে কি করে মিশে খেলতে হয়।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ করতেই হয় তবে তা হবে বিএনপি’র সাথে আতাত। তা না হলে ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার বিচার এখনও কেন ঝুলে আছে। জিয়া ট্রাষ্ট দূর্নীতি মামলায় সুরাহা এখনও কেন হয় না? দেশবাসী জানে যে কার সাথে আতাত করে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে কথা হচ্ছিল অভিযোগ সরকার দিবসটি উদযাপনে বাধা দিচ্ছে যা সীমিত করছে। সরকার তার জনগণকে নিরাপদ ক্ষেত্র তৈরী করে দিবে এটা সরকারের দায়িত্ব। আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপকে আমাদের সাধুবাদ জানানো প্রয়োজন। অবস্থান বিকাল ৫টা পর্যন্ত নাকি রাত ১০টা পর্যন্ত হবে তার উপর বাঙ্গালী ঐতিহ্য নির্ভর করে না। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এই চেতনাগুলো জাগ্রত রাখাই মূল উদ্দেশ্য। সরকারের দায়িত্ব একটি প্লাট ফরম তৈরী করে নেওয়া; আর আমাদের জনগনের দায়িত্ব সেই প্লাটফরমটি সঠিকভাবে কাজে লাগানো। মানুষ যদি স্বতঃস্ফুর্তভাবে দিবসটি পালন করে তাহলে কোন আইন দিয়েই এটিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। যেমনটি এবার হয়েছে।
এবারের ১লা বৈশাখ আমাদের অজ পাড়া গা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মহল্লা, থানা, উপজেলা জেলা, বিভাগীয় শহরে উদযাপিত হয়েছে দ্বিগুন উৎসাহে।
শুধু দেশেই নয় প্রবাসেও দিবসটি পালিত হচ্ছে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে মহাসমারহে। এটা আমাদের অনুপ্রানিত করে উৎসাহ যোগায়। ভবিষ্যত প্রজন্ম এসব ইতিহাস জানবে এবং সেভাবে তারা বেড়ে উঠবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে তা আমাদের জন্য সহায়ক হয়। বর্তমান সরকার সে কাজটি করে যাচ্ছে। নানান কৌশলে এবং দক্ষ খেলোয়ারের মত। সরকারের কাজ সরকারকে করতে দেওয়া উচিত। আমাদের উচিত সরকারকে সহযোগিতা করা।
এই মুহুর্তে বিশ্ব পাল্টাচ্ছে; ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। আমাদের দেশটি সেই উত্তপ্ত হাওয়া থেকে রেহাই পেয়ে ক্রমশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার সময়ের পরিক্ষায় উতীর্ণ।  ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হবে এমন আশা এখন অনেকেই করছেন।
সরকার তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে কোন ভূলক্রটি হলে তা জনগণ শুধরানোর জন্য বলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এমন কথা ও কাজ বা সমালোচনা করা কি ঠিক হবে যা প্রক্ষান্তরে মুক্তিযোদ্ধের চেতানায় বিরোধী পক্ষ শক্তিশালী হয়? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, হাজার বছরের লালিত বাঙ্গালী ঐতিহ্য, ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ঐত্যিগুলো লালন করে যাবো নিজ উদ্যোগে। স্বতস্ফূর্ত ভাবে যা এখন হচ্ছে। তবেই না আমরা পৌছে যাবো আমাদের গন্তব্যে কাঙ্খিত লক্ষ্যে।  আমরাই পৃথিবীর সেরা জাতি বাঙ্গালী জাতি ইতিহাস ও ঐতিহ্যে।
মনে রাখতে হবে বাঙ্গালী সংস্কৃতিই আমাদের শক্তি।

লেখক, সম্পাদক- ইউএস বাংলা নিউজ

Comments

comments

error: Content is protected !!