JavaScript must be enabled in order for you to see "WP Copy Data Protect" effect. However, it seems JavaScript is either disabled or not supported by your browser. To see full result of "WP Copy Data Protector", enable JavaScript by changing your browser options, then try again.
প্রশংসা শুনে মন গলা আমার স্বভাব না – শেখ হাসিনা

প্রশংসা শুনে মন গলা আমার স্বভাব না – শেখ হাসিনা

প্রশংসা শুনে মন গলা আমার স্বভাব না, সেখানে সন্দেহের কিছু আছে কিনা আমাদের দেখতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ এখন প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি এলাকায় জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখে মোকাবিলা করতে হবে সব পরিস্থিতি। পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষে মঙ্গলবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিমিয় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা বরাবরের মতো নানা ধরনের দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মপরিধি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। বৈশ্বিক সন্ত্রাস মোকাবিলায় আরো আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমানে পুলিশের জনবল অনুযায়ী, ২২টি গ্রেড-১ পদ সৃষ্টি হওয়ার কথা। পুলিশের পক্ষে গ্রেড-১ এর দশটি পদ সৃষ্টির আবেদন করা হয়। আবেদনে আরো কিছু খালি পদের দাবি ছিল। রয়েছে আলাদা পুলিশ বিভাগ গঠনের বিষয়টিও। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যারাক নির্মাণ, আরো কিছু আবাসন ব্যবস্থা গ্রহণ, গাড়ি, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্য দিয়ে নিরাপত্তা প্রদান, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগসহ আরো বেশকিছু আবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন পুলিশ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের সব দাবি মনোযোগ সহকারে শোনেন। একপর্যায় তিনি বলেন, না চাইতেও পুলিশকে অনেক কিছু দেয়া হয়েছে। গ্রেড-১ এর পাঁচটি পদ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আগেই দেয়া হয় এবং বাকি দুটি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, ‘যখন যা লাগবে আমাকে বলবেন।’
সভায় পুলিশ সুপার থেকে আইজিপি পর্যন্ত ৩৬৮ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। সভায় বড় দুটি জঙ্গি হামলার পর তাদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্বরাষ্ট্রসচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশ মহা-পরিদর্শক একেএম শহীদুল হক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবিও তোলেন।
সভার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আওয়ামী লীগের এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা প্রসঙ্গে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এভাবে মৃত্যুবরণ করতে হবে, এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি এলাকায় এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। লিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ‘কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি না আসায়’ বিস্ময়ও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছোটখাটো ঘটনা হলেই দেখি হাউকাউ শুরু হয়ে যায়। একজন এমপিকে হত্যা করার পর কোনো মানবাধিকার সংগঠন বা কেউ এ ব্যাপারে কোনো শব্দও করে না। বাংলাদেশ তো একটি অদ্ভুত দেশ দেখি।
২০১৫ সালের অক্টোবরে সুন্দরগঞ্জে লিটনের গুলিতে সৌরভ নামে এক শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় বেশ কিছুদিন কারাগারে কাটাতে হয় এই এমপিকে। সে সময় তার লাইসেন্স করা অস্ত্রও জব্দ করা ছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লিটনের বাসা থেকে পুলিশ তুলে নেয়া হয়েছিল। কেন পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়া হলো? তার বিরুদ্ধে একটা অপবাদ দিয়ে তার লাইসেন্স করা অস্ত্র তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হলো। মনে হলো একেবারে পরিকল্পিতভাবে ছেলেটাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হলো।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায় জামায়াতকর্মীরা। জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় ওই ঘটনার পরও পুলিশ এমপি লিটনের জন্য যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেখানে ঘটেছিল, সেখানে একজন এমপির নিরাপত্তার দিকে দৃষ্টি না দিয়ে, কোন পত্রিকায় কি লিখল সেটা দেখে সঠিক খবর না নিয়ে এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হলো, যার জন্য একজন এমপিকে জীবন দিতে হলো।
লিটন হত্যাকাণ্ডকে ‘ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে হত্যা করল, মসজিদে আগুন দিল, মানুষ পোড়াল, তাদের বিরুদ্ধে তো অত বেশি সোচ্চার হতে দেখি না। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি এলাকায় জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রাখতে হবে। নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। বিশ্ব প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। অনেক দেশই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আর বাংলাদেশ এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। কোনোভাবেই আমরা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র, জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হতে দেব না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে গভীর চক্রান্ত ছিল। এখনো যে নাই, তা নয়। আগামী দু’বছর বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ রাখলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যখনই বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকে, দেশের উন্নতি হয়, তখনই যেন ‘আরো বেশি ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়। দেশ এভাবে এগিয়ে যাবে এটা অনেকে নিতে পারে না। আমাদের শত্রু বাইরে না, ঘরের শত্রুই বিভীষণ।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বলেন, পুলিশের কার্যক্রম পর্যালোচনা, মূল্যায়ন এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণের জন্যই এ বৈঠক করা হয়। কিন্তু এখানে বক্তৃতা ও দাবি-দাওয়া উত্থাপন ছাড়া কিছুই করা হয়নি। আগামীতে এই সভা রুদ্ধদ্বার করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুটি বিভাগ হয়েছে; পদও বেড়েছে। সামঞ্জস্য রেখে যে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, তা সরকার করবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আরো দশটি অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শকের পদ সৃষ্টির অনুরোধ জানান। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলামও নতুন পদ সৃষ্টির পাশাপাশি আলাদা পুলিশ বিভাগ গঠনের কথা বলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় উন্নত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। আর জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা হলেও বাংলাদেশে একটি ‘দেশীয় সংস্করণ’ রয়েছে। তিনি বলেন, তারা বেহেশতের লোভ দেখিয়ে তরুণদের জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত করে। তবে আমরা তাদের মেরুদণ্ড অনেকটাই ভেঙে দিয়েছি।
মনিরুল ইসলাম পূর্ণাঙ্গ কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কাউন্টার রেডিক্যালাইজেশন দরকার। দীর্ঘ সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে অভিযানে যেতে হবে। এতে আরো সফলতা আসবে। প্রধানমন্ত্রী সিটিটিসি ইউনিটের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন।
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শেষ করার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো এক দেশের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য ছিল, এই ঘটনা বাংলাদেশ সামাল দিতে পারবে না। সোস্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেটা পারলাম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। তাতে মনে হলো কেউ কেউ খুশি হতে পারল না। সেদিন পুলিশের দু’জন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটাই হচ্ছে কর্তব্যবোধ, যে আপনারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (সংস্থাপন) হাবিবুর রহমান সভায় পুলিশের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশীদ যানবাহনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর কথা বলেন।  এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে আমাদের নাগরিকদের সে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা নিরাপত্তা দেবে। প্রয়োজন অনুসারে পুলিশ বাহিনীকে যানবাহন সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ছয় হাজার ৮৫৬টি গাড়ি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ নির্দেশনায় সারাদেশে সিটিটিসি ইউনিটকে ছড়িয়ে দেয়ার একটা ফর্মুলা হাতে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের আরো প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও জনবান্ধব হতে নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) দিদার আহাম্মদ মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে না চাইতেই অনেক কিছু পাওয়া যায়। বিশেষ করে আবাসন সমস্যাসহ পুলিশের বিভিন্ন দাবি দাওয়া তিনি পূরণ করেছেন। তার আমলেই পুলিশে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের প্রেষণে নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যেখানে যাকে উপযুক্ত মনে হয়, সেখানে তাকেই দেয়া হবে।

Comments

comments

error: Content is protected !!